মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৪৩ অপরাহ্ন
আঃ হাকিম বিশেষ প্রতিনিধি
ঢাকার পার্শ্ববর্তী কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ হাউজিং এলাকায় অনুমোদন ছাড়াই গড়ে উঠেছে শতাধিক কম্পিউটার এমব্রয়ডারি কারখানা। আবাসিক এলাকায় শিল্পকারখানার এই বিস্তার নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ। অভিযোগ রয়েছে, কারখানাগুলোর অনেকেই প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন, ট্রেড লাইসেন্স, ভ্যাট নিবন্ধন, পরিবেশ ছাড়পত্র ও ফায়ার সার্ভিস সনদ ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে।
শ্রমিকদের অভিযোগঃ
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শ্রমিক জানান, রাতদিন কাজ করলেও তারা প্রাপ্য মজুরি পান না। সরকারি ছুটি বা সাপ্তাহিক বন্ধের সুযোগও নেই অনেক ক্ষেত্রে। এক নারী শ্রমিক বলেন, বিদ্যুৎচালিত কম্পিউটার এমব্রয়ডারি মেশিনে কাজ ঝুঁকিপূর্ণ হলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। শর্টসার্কিট বা অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি থাকলেও বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানে ফায়ার সেফটি সরঞ্জাম দেখা যায়নি। শ্রমিকদের বেতন ৬ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে হলেও কাজের সময়সূচি দীর্ঘ বলে অভিযোগ রয়েছে। শ্রম আইন যথাযথভাবে মানা হচ্ছে না বলেও দাবি তাদের।
আবাসিক লাইনে বাণিজ্যিক কার্যক্রমের অভিযোগঃ
স্থানীয়দের ভাষ্য, বেশ কয়েকটি কারখানা বাণিজ্যিক বিদ্যুতের পরিবর্তে আবাসিক সংযোগ ব্যবহার করছে। এতে একদিকে রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে। পরিবেশ দূষণ ও শব্দদূষণেও ভোগান্তিতে পড়ছেন বাসিন্দারা। রাতে মেশিনের শব্দে ঘুমাতে সমস্যা হচ্ছে বলে জানান অনেকে।
সরেজমিনে যেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে হাসনাবাদ কমিউনিটি সেন্টার রোড সহ আশপাশ এলাকায় একাধিক প্রতিষ্ঠানে রাষ্ট্রীয় অনুমোদনের কাগজপত্র দেখানো হয়নি। এর মধ্যে রয়েছে—
হামিদ মন্ডলের মালিকানাধীন এইচ আর এমব্রয়ডারি হাউজ।
রাসেল ভূইয়ার রি-রাসেল এমব্রয়ডারি কারখানা।
হাসান মালিকানাধীন বিসমিল্লাহ কম্পিউটার এমব্রয়ডারি হাউজ।
আসিফ মাহমুদের সারেঙ কম্পিউটার অ্যান্ড এমব্রয়ডারি হাউজ।
মো. দেলোয়ার হোসেনের ইনসাফ কম্পিউটার এমব্রয়ডারি হাউজ।
শরীফ ও আজমির পরিচালিত ইয়াস কম্পিউটার এমব্রয়ডারি হাউজ।
মো. কামাল হোসেনের লাবিব কম্পিউটার এমব্রয়ডারি হাউজ।
আব্দুল গণি মিয়ার হাবিবা কম্পিউটার এমব্রয়ডারি
সোহাইল আহমেদের মাহমুদুল হাসান কম্পিউটার হাউজ রয়েছে।
খালেক মিয়ার বিসমিল্লাহ কম্পিউটার এমব্রয়ডারি হাউজ।
মো. রাজু মিয়ার মায়মুনা কম্পিউটার এমব্রয়ডারি হাউজ।
বাতেন মিয়া মালিকানা জুনায়েদ কম্পিউটার এমব্রয়ডারি হাউজ।
মো. আলীর ভূইয়া এমব্রয়ডারি হাউজ
মো. ইউসুফের সততা এমব্রয়ডারি হাউজ
মো. ইলিয়াস ও জনির মারিয়া এমব্রয়ডারি হাউজ।
এসব প্রতিষ্ঠানে ১০ থেকে ৩৫ জন পর্যন্ত শ্রমিক কাজ করছেন। অনেক ক্ষেত্রেই ন্যূনতম নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও আইনি কাগজপত্র অনুপস্থিত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগঃ
স্থানীয় সূত্রের দাবি, প্রায় দুই শতাধিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স ও ভ্যাট নিবন্ধন নেই। বছরে শতকোটি টাকার পোশাক উৎপাদন হলেও সরকার বিপুল পরিমাণ ভ্যাট ও কর থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
হাসনাবাদ হাউজিং মূলত আবাসিক এলাকা হওয়ায় এখানে শিল্পকারখানা পরিচালনার বিরোধিতা করছেন অনেক বাসিন্দা। তাদের দাবি, দ্রুত এসব কারখানাকে আইনগত কাঠামোর মধ্যে আনা হোক, নতুবা আবাসিক এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হোক।
কারখানা মালিকদের বরাত দিয়ে জানাযায় এমব্রয়ডারি কারখানা মালিক সমিতির একটি সংগঠন রয়েছে উক্ত সংগঠনের স, ২ভাপতি জনাব আইয়ুব মিয়ার কাছে কারখানা বৈধতা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি কোনো সদোত্তর দিতে পারেনি বরং তাদের সংগঠন থাকলেও কার্যকর নয়। তবে প্রতিটি ব্যবসা সরকার অনুমোদনকৃমে পরিচালিত হোক এমনটাই জানিয়েছেন।
পরিবেশ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, অনুমোদন ছাড়া শিল্পকারখানা পরিচালনা আইনত দণ্ডনীয়। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ফায়ার সার্ভিসের একজন কর্মকর্তা বলেন, কারখানা পরিচালনার ক্ষেত্রে অগ্নি নিরাপত্তা সনদ বাধ্যতামূলক। সনদ ছাড়া পরিচালিত হলে তা ঝুঁকিপূর্ণ এবং যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এলাকাবাসীর জানায় আবাসিক এলাকায় নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে এভাবে শিল্পকারখানা গড়ে উঠলে নিরাপত্তা ও জনস্বার্থ কীভাবে নিশ্চিত হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুতকেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ হাউজিংয়ে অনুমোদনহীন এমব্রয়ডারি কারখানার বিস্তার, ঝুঁকিতে শ্রমিক ও বাসিন্দারা।
এস এম উজ্জ্বল হোসেন
ঢাকার পার্শ্ববর্তী কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ হাউজিং এলাকায় অনুমোদন ছাড়াই গড়ে উঠেছে শতাধিক কম্পিউটার এমব্রয়ডারি কারখানা। আবাসিক এলাকায় শিল্পকারখানার এই বিস্তার নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ। অভিযোগ রয়েছে, কারখানাগুলোর অনেকেই প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন, ট্রেড লাইসেন্স, ভ্যাট নিবন্ধন, পরিবেশ ছাড়পত্র ও ফায়ার সার্ভিস সনদ ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে।
শ্রমিকদের অভিযোগঃ
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শ্রমিক জানান, রাতদিন কাজ করলেও তারা প্রাপ্য মজুরি পান না। সরকারি ছুটি বা সাপ্তাহিক বন্ধের সুযোগও নেই অনেক ক্ষেত্রে। এক নারী শ্রমিক বলেন, বিদ্যুৎচালিত কম্পিউটার এমব্রয়ডারি মেশিনে কাজ ঝুঁকিপূর্ণ হলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। শর্টসার্কিট বা অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি থাকলেও বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানে ফায়ার সেফটি সরঞ্জাম দেখা যায়নি। শ্রমিকদের বেতন ৬ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে হলেও কাজের সময়সূচি দীর্ঘ বলে অভিযোগ রয়েছে। শ্রম আইন যথাযথভাবে মানা হচ্ছে না বলেও দাবি তাদের।
আবাসিক লাইনে বাণিজ্যিক কার্যক্রমের অভিযোগঃ
স্থানীয়দের ভাষ্য, বেশ কয়েকটি কারখানা বাণিজ্যিক বিদ্যুতের পরিবর্তে আবাসিক সংযোগ ব্যবহার করছে। এতে একদিকে রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে। পরিবেশ দূষণ ও শব্দদূষণেও ভোগান্তিতে পড়ছেন বাসিন্দারা। রাতে মেশিনের শব্দে ঘুমাতে সমস্যা হচ্ছে বলে জানান অনেকে।
সরেজমিনে যেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে হাসনাবাদ কমিউনিটি সেন্টার রোড সহ আশপাশ এলাকায় একাধিক প্রতিষ্ঠানে রাষ্ট্রীয় অনুমোদনের কাগজপত্র দেখানো হয়নি। এর মধ্যে রয়েছে—
হামিদ মন্ডলের মালিকানাধীন এইচ আর এমব্রয়ডারি হাউজ।
রাসেল ভূইয়ার রি-রাসেল এমব্রয়ডারি কারখানা।
হাসান মালিকানাধীন বিসমিল্লাহ কম্পিউটার এমব্রয়ডারি হাউজ।
আসিফ মাহমুদের সারেঙ কম্পিউটার অ্যান্ড এমব্রয়ডারি হাউজ।
মো. দেলোয়ার হোসেনের ইনসাফ কম্পিউটার এমব্রয়ডারি হাউজ।
শরীফ ও আজমির পরিচালিত ইয়াস কম্পিউটার এমব্রয়ডারি হাউজ।
মো. কামাল হোসেনের লাবিব কম্পিউটার এমব্রয়ডারি হাউজ।
আব্দুল গণি মিয়ার হাবিবা কম্পিউটার এমব্রয়ডারি
সোহাইল আহমেদের মাহমুদুল হাসান কম্পিউটার হাউজ রয়েছে।
খালেক মিয়ার বিসমিল্লাহ কম্পিউটার এমব্রয়ডারি হাউজ।
মো. রাজু মিয়ার মায়মুনা কম্পিউটার এমব্রয়ডারি হাউজ।
বাতেন মিয়া মালিকানা জুনায়েদ কম্পিউটার এমব্রয়ডারি হাউজ।
মো. আলীর ভূইয়া এমব্রয়ডারি হাউজ
মো. ইউসুফের সততা এমব্রয়ডারি হাউজ
মো. ইলিয়াস ও জনির মারিয়া এমব্রয়ডারি হাউজ।
এসব প্রতিষ্ঠানে ১০ থেকে ৩৫ জন পর্যন্ত শ্রমিক কাজ করছেন। অনেক ক্ষেত্রেই ন্যূনতম নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও আইনি কাগজপত্র অনুপস্থিত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগঃ
স্থানীয় সূত্রের দাবি, প্রায় দুই শতাধিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স ও ভ্যাট নিবন্ধন নেই। বছরে শতকোটি টাকার পোশাক উৎপাদন হলেও সরকার বিপুল পরিমাণ ভ্যাট ও কর থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবিঃ
হাসনাবাদ হাউজিং মূলত আবাসিক এলাকা হওয়ায় এখানে শিল্পকারখানা পরিচালনার বিরোধিতা করছেন অনেক বাসিন্দা। তাদের দাবি, দ্রুত এসব কারখানাকে আইনগত কাঠামোর মধ্যে আনা হোক, নতুবা আবাসিক এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হোক।
সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বক্তব্যঃ
পরিবেশ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, অনুমোদন ছাড়া শিল্পকারখানা পরিচালনা আইনত দণ্ডনীয়। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ফায়ার সার্ভিসের একজন কর্মকর্তা বলেন, কারখানা পরিচালনার ক্ষেত্রে অগ্নি নিরাপত্তা সনদ বাধ্যতামূলক। সনদ ছাড়া পরিচালিত হলে তা ঝুঁকিপূর্ণ এবং যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন, আবাসিক এলাকায় নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে এভাবে শিল্পকারখানা গড়ে উঠলে নিরাপত্তা ও জনস্বার্থ কীভাবে নিশ্চিত হবে? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেন।