শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২৬ পূর্বাহ্ন

Headline :
টুঙ্গিপাড়া ও ঘোনাপাড়ায় ভ্রাম্যমান আদালত: ২ ফার্মেসীকে ৪২ হাজার টাকা জরিমানা মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে পরিবেশ সংরক্ষণ ও মানবাধিকার সাংবাদিক ফাউন্ডেশনের গন সমাবেশ খুলনায় দাপ্তরিক অনুমোদন ছাড়াই চলছে অবৈধ পেট্রোল পাম্প দেখার কেউ নেই খুলনায় অবৈধ করাত কলের সংখ্যা বৈধ করাত কলের চেয়ে প্রায় পাঁচ গুণ বেশি অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও লাইসেন্স হালনাগাদ না থাকায় চিতলমারী ক্লিনিক কে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা খুলনা অঞ্চল হাইওয়ে থানা পুলিশের নবাগত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ ফখরুলের বিভিন্ন থানা পরিদর্শন ও মতবিনিময় খুলনায় শব্দ দূষণ রোধে পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযান হাইড্রোলিক হল জব্দ ও জরিমানা আদায় খুলনার ডুমুরিয়ার খর্নিয়া ইউনিয়নের একমাত্র খেলার মাঠ ও তৎসংলগ্ন মহাসড়কে বসে গরুর হাট খুলনায় পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযান জরিমানা আদায় ও হাইড্রোলিক হর্ণ জব্দ খুলনায় পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযানে অবৈধ পলিথিন জব্দ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে খুলনা সদরে ৩৭ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংস্কারের প্রায় অর্ধ কোটি টাকার সিংহভাগই লুটপাট দেখার কেউ নেই

শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২৬ পূর্বাহ্ন

আঃ হাকিম বিশেষ প্রতিনিধি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন থেকে খুলনা মহানগরীর ৩৭টি স্কুলে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা জরুরী সংস্কারের জন্য বরাদ্দ করা হয। বিদ্যালয় সমুহের মধ্যে দৌলতপুর মহাসিন সপ্রাবি,মহেশ্বর পাশা আদর্শ সপ্রাবি,স্যাটেলাইট টাউন সপ্রাবি,মুজগুন্নি সপ্রাবি,নুরনগর সপ্রাবি,মধ্যডাঙ্গা সপ্রাবি,গোয়ালখালী সপ্রাবি,পাগলা আফিল উদ্দিন সপ্রাবি,দক্ষিণ কাশিপুর সপ্রাবি,বীণাপাণি সপ্রাবি,আলিশপুর বালিকা সপ্রাবি,কার্তিক কুল সপ্রাবি,পাগলা দক্ষিণপাড়া সপ্রাবি,নেছারিয়া সপ্রাবি,দেয়ানা দক্ষিণপাড়া সপ্রাবি,মধ্যপাড়া সপ্রাবি,থেকে শের-ই- বাংলা সপ্রাবি,পাবলা সবুজ সংঘ সপ্রাবি,বয়রা আলহাজ্ব মনসুর রহমান সপ্রাবি,বাস্তহারা সপ্রাবি, শশীভূষণ শিশু নিকেতন সপ্রাবি,কয়লাঘাটা সপ্রাবি,শেখপাড়া সপ্রাবি,হাজী ফয়েজ উদ্দিন সপ্রাবি,পূর্ব বানিয়া খামার সপ্রাবি,দক্ষিণ কোটপাড়া সপ্রাবি,টুটপাড়া মডেল সপ্রাবি,রুপসা সপ্রাবি,সোনাপোতা সপ্রাবি,আব্দুল গনি সপ্রাবি,হ্যানে রেলওয়ে সপ্রাবি,শিপইয়ার্ড সপ্রাবি,আদর্শ মডেল সপ্রাবি,প্রভাতী রেলওয়ে সপ্রাবি,মোল্লাপাড়া সপ্রাবি,ডি আলী সপ্রাবি,ভৈরব সপ্রাবি।

এসব বরাদ্দের অনুকূলে বিদ্যালয় সমূহ এলজিইডি বটিয়াঘাটা ও দিঘলিয়া থেকে কাজের প্রাক্কলন গ্রহণকরে। বেশিরভাগ স্কুলে ঘুরে দেখা যায় প্রাক্কলন অনুযায়ী নামমাত্র কাজ করে থানা শিক্ষা কর্মকর্তার স্বাক্ষর করে বিল উত্তোলন করা হয়েছে । বর্তমানে স্কুলগুলোতে ৪ সদস্যদর কমিটি রয়েছে। উক্ত কমিটিতে সহকারী থানা শিক্ষা কর্মকর্তা সভাপতি , সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সদস্য সচিব ও যেকোনো মাধ্যমিক বিদ্যালয় একজন শিক্ষক সদস্য ও জমিদাতা সদস্য হিসেবে থাকবে এমন নিয়ম রয়েছে। স্কুলের উন্নয়ন, সংস্কার সহ সার্বিক কার্যক্রমে কমিটির সকল সদস্যের অংশগ্রহণ থাকবে। এমন নিয়ম নীতি থাকলেও বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ও সদস্য সচিব ছাড়া সংস্কার বরাদ্দের কাজের কেউ কিছুই বলতে পারে না ।

প্রাক্কলন অনুযায়ী কাজ হয়নি এমন প্রশ্নের জবাবে কয়লাঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এর প্রধান শিক্ষীকা মিসেস সালমা বলেন, স্কুলের বিভিন্ন অংশে কাজ করেছি কাজ করতে গেলে ভুল ত্রুটি হতে পারে। স্কুলটি পরিদর্শনকালে দেখা যায় ২০৪০টাকা মূল্যর হ্যালোজেন লাইটের বরাদ্দ থাকলেও ব্যবহার করছে ৩০০ টাকা দামের এলইডি বাল্ব। একইভাবে বৈদ্যুতিক সকল সরঞ্জামাদি দাম এবং মানের ক্ষেত্রে বিস্তার তফাৎ রয়েছে।

একই প্রশ্নের জবাবে হাজী ফয়েজ উদ্দিন সপ্রাবি এর প্রধান শিক্ষীকা মিসেস রোমানা বলেন, আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি হয়তো সবকিছু প্রাক্কলন অনুযায়ী হয়নি।

রুপসা সপ্রাবি এর প্রধান শিক্ষক মোঃ জাহাঙ্গীর বলেন, প্রাক্কলন করা হয়েছে শুধুমাত্র এজি অফিস থেকে টাকা উঠানোর জন্য, এ কারণে প্রাক্কালনের সাথে কাজের কোন মিল নাই।উক্ত স্কুল কমিটির সদস্য রুপসা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোঃ সিরাজুল ইসলাম নান্নু বলেন, আমিতো জানি ঠিকাদারের মাধ্যমে কাজ হয়েছে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমাকে কিছু বলেননি । বিদ্যালয়ের সংস্কার কাজ হয়েছে এমন বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। একই চিত্র বিভিন্ন স্কুলে।

বটিয়াঘাটা উপজেলা প্রকৌশলী গৌতম কুমার মন্ডল বলেন, আমরা বেশ কিছু স্কুলে প্রাক্কলন করেছি কিন্তুু মাত্র দুটি স্কুল কাজ শেষে আমাদের কাছ থেকে প্রত্যায়ন নিয়েছে বাকি স্কুলগুলো কিভাবে বিল উত্তোলন করেছে আমার জানা নেই।

এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের অভিযোগ খুলনা সদরের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে নির্বাচন উপলক্ষে বরাদ্দকৃত জরুরী সংস্কারের নামমাত্র কাজ হয়েছে এবং অধিকাংশ টাকাই প্রধান শিক্ষক ও প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের জোগসাজোসে লুটপাট হয়েছে।

কাজের এমন অনিয়মের এর বিষয়ে জানতে চাইলে খুলনা সদর থানা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ শাহজাহান বলেন,প্রাক্কলন অনুযায়ী কাজ হতে হবে এমন কোন নিয়ম নেই। আমরা দেখেছি কাজ হয়েছে কে কি বলল এতে কিছু যায় আসে না ।

এ বিষয়ে খুলনা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ অহিদুল আলম এর সাথে মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি । সরকারি বরাদ্দের এম লুটপাটের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন সচেতন মহল।