শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:৫০ অপরাহ্ন
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চলে খাস কালেকশন
আব্দুল কাইয়ুম খান
# খাস কালেকশনের নামে চলছে লুটপাট
#মাঠটি খেলার উপযোগী না থাকায় বছরের পর বছর খেলাধুলার অভাবে শারীরিক ও মানসিক বিকাশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থী ও স্থানীয় যুব সমাজ।
#মহাসড়কে যানজট সৃষ্টি , সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, ঘটছে ছোট বড় দুর্ঘটনা বিপাকে সড়ক বিভাগ।
ডুমুরিয়ার ঐতিহ্যবাহী খর্নিয়া স্কুলের মাঠ দখল করে গরুর হাট বসছে দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর যাবত। হাটটি সপ্তাহে ১ দিন বসলেও শত শত গরুর বর্জ্যের কারণে একমাত্র খেলার মাঠটি কোমলমতি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার অনুপযোগী থাকে বছরজুড়েই । ফলে স্কুলের গন্ডিতেই শিক্ষার্থীরা বন্দী হয়ে থাকে । বর্তমান সরকার শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করাতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করলেও এসব সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অত্র বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এদিকে মাঠটি দীর্ঘবছর যাবত স্থানীয় প্রশাসন ইজারা দিয়ে বিপুল অংকের রাজস্ব আদায় করলেও উন্নয়নের কোন ছোঁয়া লাগেনি । পাশাপাশি সড়ক ও জনপথ বিভাগের রাস্তা দখল করে গরু ও বহনকারী যানবাহন রাখায় সড়কটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ বিষয়ে সড়ক বিভাগ একাধিকবার উদ্যোগ গ্রহণ করলেও তা কোন কাজে আসেনি এমনকি খুলনা জেলা প্রশাসনের মাসিক সভায় সড়ক বিভাগের পক্ষ থেকে মহাসড়কের উপরের গরুর হাট বসার কারণে যানজট সৃষ্টি , সড়কের স্থায়ী ক্ষতির বিষয়টি উত্থাপন হলে হাটটি অন্যত্র দ্রুত স্থানান্তরের বিষয়টি রেজুলেশন আকারে পাস হলেও হাটটি অন্যত্র স্থানান্তরের কোন উদ্যোগই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়নি। এছাড়া হাটটিতে পশু বেচাকেনা বাড়লেও বর্তমানে রাজস্ব আদায় একেবারেই তলানিতে । বার্ষিক ৫৬ লাখ টাকা ইজারার হাটটি থেকে বর্তমানে উপজেলা প্রশাসন মাত্র ১২ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় করছে। এতে বিপুল অংকের টাকা লুটপাট হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। সরেজমিনে স্থানীয়দের সাথে আলাপ কালে জানা যায় , খর্নিয়ার গরুর হাটটি এতদাঞ্চলের সর্ববৃহৎ পশুর হাট হিসেবে পরিচিত । সপ্তাহের প্রতি বৃহস্পতিবার এই হাটে সহস্রাধিক গরু বেচাকেনা হয়। এতে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আসে । তবে হাটটিতে উন্নয়নের কোন ছোঁয়ায় লাগেনি । খুলনা সাতক্ষীরা সংযোগকারী মহাসড়কের পাশে বৃহৎ গরুর হাট বসায় হাটবারে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয় । সড়কের দু-ধারে পশুবাহী যানবাহন দাঁড়িয়ে থাকায় প্রায় ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটে । অথচ সড়ক বিভাগকে এ ব্যাপারে কখনো কোন পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, হাটটি থেকে বিগত বছরগুলোতে অর্ধ লক্ষাধিক টাকা সরকারি রাজস্ব আদায় হলেও বর্তমানে তা এক চতুর্থাংশে নেমে এসেছে। হাটে প্রতিনিয়ত পশুর আমদানি ও বিক্রি বাড়লেও আশঙ্কা জনক ভাবে রাজস্ব কমায় এলাকায় নানান কথা প্রচার হচ্ছে। স্থানীয়দের মতে একটি মহল উপজেলা প্রশাসনের সাথে সিন্ডিকেট করে টেন্ডার প্রক্রিয়া ছাড়াই খাস আদায়ের মাধ্যমে হাটটি পরিচালনা করছে । ফলে উক্ত মহল সহ স্থানীয় প্রশাসন বিপুল অংকের অর্থ অবৈধভাবে হাতিয়ে নিচ্ছে। খর্নিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাধন মজুমদার বলেন, স্কুলের জন্ম থেকেই মাঠটি আমাদের। অথচ আমাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এখানে খেলাধুলার কোন সুযোগ পায় না। মাঠ জুড়ে সপ্তাহে একদিন হাট বসলেও সহস্রাধিক পশুর বর্জ্যের কারণে সারা বছরই খেলাধুলার অনুপযোগী হয়ে পড়ে থাকে মাঠটি । পাশাপাশি হাটের দিনে প্রচন্ড কোলাহলে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে বাধ্য হয়েই ক্লাস বন্ধ রাখতে হয় ।এতে শিক্ষার্থীদের পাঠ্যক্রমে চরম ক্ষতি হচ্ছে। হাটটি অন্যত্র স্থানান্তর করে মাঠটি খেলার উপযোগী করতে আমরা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি। হাটটি পেরি পেরি ভুক্ত বাজার এলাকায় স্থানান্তর হলে আমাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘোব হবে। এ ব্যাপারে আমরা জেলা পরিষদের বর্তমান প্রশাসক ও জেলা প্রশাসকের সুদৃষ্টি কামনা করছি। বিষয়টি নিয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগ খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ তানিমুল হক বলেন, আমি যোগ দানের পর থেকেই খর্নিয়া গরুর হাটটি অন্যত্র সরানোর ব্যাপারে বিভিন্ন ফোরামে আলোচনা করে আসছি। চলতি বছরের ঈদুল ফিতরের আগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মাসিক সভায় রাস্তার উপরে নিয়মিত পশুর হাট বসায় এবং যানবাহন রাখায় রাস্তার ক্ষতি ও সৃষ্ট যানজটের বিষয়টি উত্থাপন করলে বিষয়টি রেজুলেশন আকারে লিপিবদ্ধ হয় এবং ডুমুরিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাকে হাটটি ঈদুল ফিতরের আগেই অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে নির্দেশনা প্রদান করেন জেলা প্রশাসক। কিন্তু অদ্যবধি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এমন কোন উদ্যোগ গ্রহণ করতে আমি দেখিনি।
সার্বিক বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়ার জন্য ডুমুরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি অমিত কুমার বিশ্বাস ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবিতা সরকারের সাথে দীর্ঘদিন যাবত বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তারা এ বিযয়টি কে বিভিন্ন কৌশলে এড়িয়ে গেছে । খর্নিয়া গরুর হাটটি দ্রুত সময়ে হাটবাজার পেরি পেরি ভুক্ত সীমানার মধ্যে স্থানান্তর করে খেলার মাঠটি শিক্ষার্থী ও এলাকার যুব সমাজের খেলার উপযোগী করতে এবং মহাসড়কটি যানজট মুক্ত রাখতে সংশ্লিষ্ট সকল প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে এলাকাবাসী ।