শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫২ পূর্বাহ্ন

Headline :
টুঙ্গিপাড়া ও ঘোনাপাড়ায় ভ্রাম্যমান আদালত: ২ ফার্মেসীকে ৪২ হাজার টাকা জরিমানা মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে পরিবেশ সংরক্ষণ ও মানবাধিকার সাংবাদিক ফাউন্ডেশনের গন সমাবেশ খুলনায় দাপ্তরিক অনুমোদন ছাড়াই চলছে অবৈধ পেট্রোল পাম্প দেখার কেউ নেই খুলনায় অবৈধ করাত কলের সংখ্যা বৈধ করাত কলের চেয়ে প্রায় পাঁচ গুণ বেশি অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও লাইসেন্স হালনাগাদ না থাকায় চিতলমারী ক্লিনিক কে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা খুলনা অঞ্চল হাইওয়ে থানা পুলিশের নবাগত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ ফখরুলের বিভিন্ন থানা পরিদর্শন ও মতবিনিময় খুলনায় শব্দ দূষণ রোধে পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযান হাইড্রোলিক হল জব্দ ও জরিমানা আদায় খুলনার ডুমুরিয়ার খর্নিয়া ইউনিয়নের একমাত্র খেলার মাঠ ও তৎসংলগ্ন মহাসড়কে বসে গরুর হাট খুলনায় পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযান জরিমানা আদায় ও হাইড্রোলিক হর্ণ জব্দ খুলনায় পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযানে অবৈধ পলিথিন জব্দ

খুলনায় অবৈধ করাত কলের সংখ্যা বৈধ করাত কলের চেয়ে প্রায় পাঁচ গুণ বেশি

শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫২ পূর্বাহ্ন

অবাক করা বিষয় সামাজিক বন বিভাগের কাছে কোন তালিকা বা তথ্য নেই
আব্দুল কাইয়ুম খান
প্রশাসনের অনুমোদন ছাড়াই খুলনা জেলার বিভিন্ন এলাকায় যত্রতত্র গড়ে উঠেছে অবৈধ করাত কল । অথচ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে এর কোন সার্বিক পরিসংখ্যান নেই । মাঠ পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে খুলনা অঞ্চলে করাতকলের সংখ্যা ৩ শতাধিক ‌। এরমধ্যে বৈধ করাত কলের সংখ্যার তুলনায় অবৈধ করাত কলের সংখ্যা ৫ গুণ বেশি বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। তবে এর মধ্যেও অনেক করাত কলের আবার পরিপূর্ণ অনুমোদন নেই। একপ্রকার প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই চলছে এসব করাত কলের কর্মকান্ড। সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,
খুলনা জেলায় বৈধ করাত, কলের চেয়ে অবৈধ করাত কলের সংখ্যা প্রায় পাঁচ গুণ বেশি । বৈধ, অবৈধ এবং আবেদন প্রক্রিয়াধীন করাত কল সমুহের কোন তালিকাই নেই জেলা সামাজিক বন বিভাগের বন কর্মকর্তার দপ্তরে । বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, খুলনা জেলায় ৩ শতাধিক করাত কল রয়েছে । এসব করাত কলের অধিকাংশই অবৈধ। নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করেই স্কুল, ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকা,
মসজিদ সহ নানান সামাজিক প্রতিষ্ঠানের সাথেই গড়ে উঠেছে অবৈধ করাত কল। ফলে শব্দ দূষণে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ও চরম অসস্তিতে স্থানীয়রা । স্থানীয়দের অভিযোগ সামাজিক বন বিভাগের কর্মকর্তা, কর্মচারীদের যোগসাজশে বছরের পর বছর চলছে অবৈধ করাত কল । সরেজমিনে খুলনা সিটি কর্পোরেশন এলাকার শীপইয়ার্ড এলাকা থেকে শুরু করে কাস্টম ঘাট পর্যন্ত ২৫ টি করাত কল রয়েছে । এর মধ্যে ২০ টি করাতকলের সংশ্লিষ্ট দপ্তর সমূহের প্রশাসনিক অনুমোদন নেই । নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনুমোদিত কলের, স্বত্বাধিকারীরা জানান অবৈধ করাত কলের জন্য ব্যবসায়িকভাবে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অবৈধ করাত কলের বেশ কিছু স্বত্বাধিকারীদের সাথে কথা বললে তারা জানান বন বিভাগের কর্মকর্তারা আমাদের সম্পর্কে জানেন এবং তাদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করেই আমরা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছি । বটিয়াঘাটার উপজেলার কৈয়া বাজারে এলাকায় অনুমোদন বিহীন কয়েকটি করাত কলের স্বত্বাধিকারীরা জানান , বন কর্মকর্তাকে প্রতি মাসে টাকা দিয়ে প্রতিষ্ঠান চালাতে হয়। একই চিত্র খুলনা জেলার রুপসা, তেরখাদা , ডুমুরিয়া ও পাইকগাছা এলাকায় । সার্বিক বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়ার জন্য কয়েকদিন মুঠো ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করার পর খুলনা জেলা সামাজিক বন কর্মকর্তার কার্যালয়ে দেখা মেলে খুলনা জেলা কর্মকর্তা সুপ্রিয়া হুই এর সাথে। এ কর্মকর্তার কাছে জেলার বৈধ করাত কল, অবৈধ করাত কল ও আবেদিত করাত কলের বিষয়ে তথ্য চাইলে তিনি বলেন আমাদের কাছে এই মুহূর্তে করাত কলের কোন তালিকা নেই। জনবলের অভাব, নার্সারীর কাজকর্মের চাপ সহ বিভিন্ন অজুহাত দেখান। অবৈধ করত কল সমুহের কাছ থেকে তার অধীনস্থ কর্মকর্তা , কর্মচারীরা অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করেন এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কৌশলে বলেন শুধু আমরাই টাকা নেই না উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তর থেকেও বিভিন্ন দিবস উপলক্ষে টাকা নেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা বাগেরহাট মোঃ শাহিন কবীর এর সাথে আলাপ করলে তিনি জানান আমাদের জনবল কম । বৈধ ,অবৈধ ও আবেদিত করাত কলের তালিকা বাগেরহাট জেলাতেও নেই। অবৈধ বিভিন্ন করাত কল থেকে বন বিভাগের কর্মকর্তা কর্মচারীদের অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের ব্যাপারে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি নিয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। অবৈধ করাত কল বন্ধে বন বিভাগের এমন উদাসীনতায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের স্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে ও বৈধ করাতকলের স্বত্বাধিকারীদের মাঝে প্রশ্ন রয়েছে? পরিবেশ অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় পরিচালক খোন্দকার মোঃ ফজলুল হক বলেন খুলনা বিভাগে পরিবেশের ছাড়পত্র বিহীন অবৈধ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আমাদের নিয়মিত অভিযান চলমান রয়েছে । এ বিভাগের যে সমস্ত করাত কলের পরিবেশে ছাড়পত্র নাই তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।