বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪১ অপরাহ্ন
আঃ কাইয়ুম খান
মোড়লগঞ্জ পৌরসভার অভ্যন্তরীণ সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ২০২৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর প্রায় ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে মোড়লগঞ্জ পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ ৫ টি সড়ক জি ও বি , এডিবির অর্থায়নে নির্মাণ ও সংস্কার কাজ শুরু হয়ে চলমান রয়েছে । সড়ক গুলোর মধ্যে রয়েছে , নব্বই রশি বাসস্ট্যান্ড থেকে বালুর রাস্তা হয়ে কাঠালতলা পর্যন্ত ২১শ মিটার। লঞ্চঘাট থেকে শহরের প্রধান সড়ক হয়ে নব্বই রশি বাসস্ট্যান্ড
পর্যন্ত ৯শ ৫৮ মিটার। পুরাতন থানা থেকে প্রাণিসম্পদ কার্যালয় হয়ে স্টিল ব্রিজ পর্যন্ত ৮শ৩০ মিটার। সহ আরো ২টি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক রয়েছে।
এসব সড়কে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হলেও কর্তৃপক্ষের তেমন কোন মাথা ব্যথা আছে বলে মনে হয়নি । অভিযোগ আছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান পৌর প্রকৌশলী, ও পৌর প্রশাসক মিলে দায়সারা ভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এলাকাবাসী এ নিয়ে ক্ষুব্ধ হলেও প্রশাসন আশ্বাসের মাধ্যমেই সীমাবদ্ধ রেখে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে ।
মোড়লগঞ্জ পৌরসভায় জনসাধারণের চলাচলে চলাচলে জনদূর্ভোগ লাঘোবে ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে প্রায় ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে পাঁচটি রাস্তা নির্মাণ কাজ শুরু হয় । স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাস্তা ৫টি নির্মাণ ও সংস্কার কাজ শুরু থেকেই নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের ফলে একাধিকবার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানসমূহ বাঁধার মুখে পড়েছে । কিন্তু পৌরসভার প্রকৌশলী ও প্রশাসক বিষয়গুলো আমলে না নিয়ে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ও নিয়ম নীতি না মেনে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগ সাজেশে রাস্তার নির্মাণ ও সংস্কার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে কাজের মান ও স্থায়িত্ব নিয়ে এবং প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিয়ে স্থানীয়ভাবে নানা রকম প্রশ্ন উঠেছে । সরেজমিনে অনুসন্ধানে দেখা যায়,রাস্তা সমূহের ঢালাইের কাজে ব্যবহার হচ্ছে নিম্নমানের ফাঁপা পাথর ও নিম্নমানের সিলেট স্যান্ডস এবং রড বাইন্ডিংয়ে ও রডের সঠিক মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
রাস্তা নির্মাণের নামে সরকারি অর্থের অপচয় হচ্ছে । এমন মন্তব্য স্থানীয়দের । স্থানীয়ভাবে জানা যায় , রাস্তাটি নির্মাণ কাজ শুরু করার পর বিভিন্ন সময়ে নিম্নমানের মালামাল ব্যবহারের জন্য পৌরসভার প্রকৌশলী , ইঞ্জিনিয়ার ও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজনকে বলেছে স্থানীয়রা । কিছু কিছু সময় কাজ বন্ধ থাকলেও পরবর্তীতে একই মালামাল ব্যবহার করে আবার কাজ শুরু করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
সার্বিক বিষয়ে বর্তমান মোড়লগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক ও মোড়লগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাবিবুল্লাহর কাছে মালামালের ছবি পাঠিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমিও দেখেছি বালি নিম্নমানের হয়েছে প্রকৌশলী ও ঠিকাদারের সাথে কথা বলে আমি জেনেছি বর্ষাকালে এর চেয়ে ভালো ভালো সিলেট স্যান্ডস পাওয়া যায় না । সাধারণত রাস্তায় ঢালাইের কাজে ২.৮ থেকে ২.৫ এফ এম বালুর ব্যবহার করার কথা থাকলেও এখানে ব্যবহৃত বালুর এফএম ১.৫ এর নিচে এবং দামে প্রতি ঘন ফুটে ৭০ টাকার ব্যবধান রয়েছে । যশোর, নোয়াপাড়া, খুলনা, বাগেরহাটের জেলা সদরে এ বালির কোন সংকট নেই এমন তথ্য পৌর প্রশাসককে জানালে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। নিম্নমানের পাথর দিয়ে কাজ হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কোন সদ উত্তর দেননি
একপর্যায়ে তার কাছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম, প্রকল্পের মেয়াদ ও বরাদ্দের পরিমাণ জানতে চাইলে তিনি 01711398692 নাম্বারটি দিয়ে বলেন এটা প্রকৌশলীর নাম্বার। এই নাম্বারে যোগাযোগ করে আপনার তথ্য নিয়ে নেন। ওই নাম্বারটিতে ফোন করে প্রকল্পে নিম্নমানের মালামাল ব্যবহার, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম, প্রকল্পের মেয়াদ, কোন রাস্তায় বরাদ্দ কত তথ্য চাইলে নাম্বারটিতে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয় না। বিষয়টি পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাবিবুল্লাহ কে জানালে তিনি সর্বশেষ বলেন নাম্বার তো দিয়েছি আপনি নিয়ে নেন। তোর এমন মন্তব্যে প্রকল্পে অনিয়ম, অস্বচ্ছতা, তথ্য প্রদানে অস্বীকৃতি বা পাশ কাটিয়ে যাওয়া বিষয়টিকে স্থানীয়রা লুটপাটে তার সম্মতি রয়েছে এমন মন্তব্য করেন। দীর্ঘদিনের অচল অবস্থা থাকার পর পৌরবাসীর যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করনের জন্য সরকার যে অর্থ বরাদ্দ করেছে তার যথাযোগ্য ব্যবহার না হওয়ায় অল্প দিনেই রাস্তাটি নষ্ট হয়ে আবার পূর্বের অবস্থায় ফিরে যাবে এমন আশঙ্কা স্থানীয়দের । স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি বিষয়টি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন, দুর্নীতি দমন কমিশন, সহ সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর তদন্ত ও মনিটরিংয়ের মাধ্যমে সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার প্রত্যাশা করছে এলাকাবাসী