সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:১৩ অপরাহ্ন

Headline :
খুলনায় পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযানে অবৈধ পলিথিন জব্দ খুলনা সাতক্ষীরা মহাসড়কের জিরো পয়েন্ট – চুকনগর অংশের দীর্ঘ বছর যাবত বেহাল দশা সাতক্ষীরা মহাসড়ক এখন মৃত্যুফাঁদ : ঝুঁকি নিয়ে চলছেন লাখো মানুষ সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ কে ১১ কোটি টাকা পরিষোধের পরও বিদ্যুতের খুঁটি অপসরণে ধীরগতি ঝিনাইদহে ক্লিনিক্যাল বর্জ্য অব্যবস্থাপনার দায়ে ও যথাযথ প্রক্রিয়ায় রিএজেন্ট সংরক্ষণ না করায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা জরিমানা আদায় খুলনায় পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযানে হাইড্রোলিক হর্ন জব্দ ও জরিমানা আদায় সরকারি আবাসনে নতুন দৃষ্টান্ত: মিরপুর পাইকপাড়ায় আধুনিক বহুতল আবাসন প্রকল্পে নান্দনিকতা, প্রকৌশল দক্ষতা ও সেবার অনন্য সমন্বয় যমুনা ফিউচার পার্কে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুর: প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুক্তভোগী খুলনায় পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযানে ২হাজার ৫শ ৪২ কেজি অবৈধ পলিথিন জব্দ রূপসা উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন নির্মানের শুরুতেই ব্যাপক অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ

যমুনা ফিউচার পার্কে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুর: প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুক্তভোগী

সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:১৩ অপরাহ্ন

আঃ হাকিম বিশেষ প্রতিনিধি

​রাজধানীর বারিধারা-বসুন্ধরা এলাকায় অবস্থিত এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম শপিংমল যমুনা ফিউচার পার্কে এক ব্যবসায়ী শাহীন বাবু (৫৩) পিতা – তাজুল ইসলাম গ্রাম: বড়াইল পোষ্ট: আংঙ্গারিয়া, থানা: পালং সদর, জেলা: শরিয়তপুর ।ও তার কর্মচারীদের ওপর অতর্কিত হামলা, দোকান ভাঙচুর এবং মারধরের ঘটনা ঘটেছে। গত ১৬ জুন, ২০২৬ তারিখে মলের লেভেল-৩-এর ৫৪ নম্বর দোকান ‘খান এন্টারপ্রাইজ’-এ এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী চরম জীবননাশের হুমকিতে থাকলেও প্রশাসনের তরফ থেকে কোনো দৃশ্যমান সহযোগিতা বা আইনি পদক্ষেপ না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

​ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ জুন (১৬/০৬/২০২৬) যমুনা ফিউচার পার্কের লেভেল-৩, ব্লক-সি এর ৫৪ নম্বর দোকান ‘খান এন্টারপ্রাইজ’-এ একদল অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতকারী অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা দোকানে প্রবেশ করেই ব্যাপক ভাঙচুর শুরু করে এবং দোকানে থাকা মূল্যবান মালামাল ও ক্যাশ বাক্স লুটপাট করার চেষ্টা চালায়।

​এ সময় দোকানে দায়িত্বরত ব্যবসায়ী শাহীন বাবু এবং তার কর্মচারীরা বাধা দিতে গেলে তাদের ওপর নির্মমভাবে লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে চড়াও হয় হামলাকারীরা। প্রকাশ্য দিবালোকে জনাকীর্ণ একটি শপিংমলে এই ধরনের সহিংস ঘটনায় মুহূর্তের মধ্যে পুরো ফ্লোরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হামলায় ব্যবসায়ীসহ কয়েকজন গুরুতর আহত হন।

 

​হামলার ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী শাহীন বাবু ও তার পরিবার তীব্র আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। ঘটনার পর দুই সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন মাধ্যমে তাকে ও তার পরিবারকে মামলা না করার জন্য এবং দোকান বন্ধ করে চলে যাওয়ার জন্য ক্রমাগত প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে।

​”আমরা শপিংমলের মতো একটি নিরাপদ জায়গায় ব্যবসা করেও আজ সুরক্ষিত নই। প্রকাশ্য দিবালোকে আমার দোকানে ঢুকে মারধর ও ভাঙচুর করা হলো। এখন আমি দোকানে যেতে পারছি না, পরিবার নিয়ে ঘরের বাইরে বের হতে ভয় পাচ্ছি। যেকোনো সময় আমার বা আমার পরিবারের বড় কোনো ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।”

 

​ভুক্তভোগীর দাবি, ঘটনার পর পরই তিনি মল কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় থানা পুলিশসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে বারবার যোগাযোগ ও সহযোগিতা চেয়েছেন। কিন্তু অত্যন্ত রহস্যজনকভাবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। অপরাধীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা তো দূরের কথা, ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্যও কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। প্রশাসনের এই ধরনের উদাসীনতায় হামলাকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর।

 

​রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত ও অভিজাত শপিংমলে এমন সিসিটিভি নিয়ন্ত্রিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেও কীভাবে এই ধরনের দুর্ধর্ষ হামলা ঘটলো, তা নিয়ে অন্যান্য সাধারণ ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের মনে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, যদি দেশের এত বড় শপিংমলেও ব্যবসায়ীরা নিরাপদ না থাকেন এবং অপরাধের পর প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করে, তবে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে?

​ব্যবসায়ী সমাজ অনতিবিলম্বে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অপরাধীদের শনাক্তকরণ, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ভুক্তভোগী খান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারীর সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন।