সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:১৩ অপরাহ্ন
আব্দুল কাইয়ুম খান
রূপসা উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন নির্মানের শুরুতেই ব্যাপক অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের কাজ ৬ মাসের বেশি সময় চলমান থাকলেও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এখনো পর্যন্ত প্রকল্পের সাইনবোর্ড দেয়নি। প্রশাসনের চোখের সামনেই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কোন প্রকার ল্যাব টেস্ট ছাড়াই ব্যবহার করছে নিম্নমানের পাথর ও রড। কাদা মিশ্রিত পাথর ব্যাবহার করার ফলে ভবিষ্যতে ভবনের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যপক সমালোচনা হলেও টিকাদারি প্রতিষ্ঠান বহাল তবিয়তে তাদের কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। তবে কাজের তত্বাবধানের দায়িত্বে নিয়োজিত উপজেলা প্রকৌশলী এর দায় নিতে চাইছেন না। তিনি নির্মান কাজে অনিয়মের কথা স্বীকার করলেও ঠিকাদার কথা শুনছেন না বলে দায় এড়িয়ে যেতে চাইছেন। আর জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সাথে এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে ২০২৫ সালের ২২ ডিসেম্বর রূপসা উপজেলা প্রশাসনিক ভবনের নির্মান কাজ শুরু হয়। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন এ ভবনের ঠিকাদারী কাজ পায় মেসার্স জিয়াউল ট্রেডার্স। ৪ তলা ভবন বিশিষ্ট এ প্রকল্পের প্রাক্কালিত ব্যায় ধরা হয়েছে ৬ কোটি ৭৬ লাখ ১৬ হাজার ৫৮৮ টাকা। কাজের সার্বিক তত্বাবধানের দায়িত্বে রয়েছে উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর।
স্থাণীয়দের অভিযোগ কাজের শুরুতেই অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছে ঠিকাদারী
প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে ভবনের বেজ ঢালাইয়ের কাজ চলছে। এ লক্ষে প্রকল্প এলাকায় আনা হয়েছে রড, পাথর, বালু, সিমেন্টসহ অন্যান্য সরঞ্জাম। যেগুলো অত্যন্ত নিম্নমানের বলে স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ। পাশাপাশি স্তুপকৃত মাটির পাশে পাথরের খোয়া ও বালু রাখার কারনে চলতি বর্ষায় এসব স্তুপকৃত মাটি ধ্বসে খোয়া ও বালুর সাথে মিশে যাচ্ছে। আর এ কাদা মাটি মেশানো পাথর ও বালু দিয়ে বর্তমানে চলছে বেজ ঢালাইয়ের কাজ। উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রকৌশলীর চোখের সামনেই এ কাজ চললেও তারা কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। অথচ এ কাদা মিশ্রিত পাথরের ঢালাইয়ের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে
ভাইরাল হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে এভাবে কাজ চলতে থাকলে ভবনের স্থায়ীত্ব নিয়ে সংশয় থেকেই যাবে।
এদিকে ৬ মাস ভবনের কাজ শুরু হলেও ব্যবহৃত রড ও পাথরের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কোন প্রকার ল্যাব টেস্ট ছাড়াই এগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ আছে। আর এ অভিযোগের সত্যতা মিলেছে খোদ উপজেলা প্রকৌশলী শোভন সরকারের সাথে আলাপকালে। তিনি রড সিমেন্টের ল্যাব টেস্ট রিপোর্ট পাইনি বলে স্বীকার করে এ প্রতিবেদককে জানান, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে বার বার সতর্ক করা হলেও তারা বিষয়টি আমলে নিচ্ছেন না। প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা এসও আশিক ও আব্দুর রশিদ এ প্রতিবেদককে জানান, ব্যবহৃত রড ও পাথর সিডিউল অনুযায়ী আনা হয়নি। পাশাপাশি কাদা মিশ্রিত মানহীন পাথর দিয়ে বেজ ঢালাইয়ের কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, ঠিকাদারের লোকজনকে বারবার নিষেধ করা হলেও তারা প্রভাব খাটিয়ে নিম্নমানের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের প্রভাবের কাছে আমরা অসহায়।
কাজে অনিয়মের বিষয়ে জানতে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জিয়াউল ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী সৈয়দ জিয়াউল হকের মোবাইল নম্বর না পাওয়ায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তার প্রতিনিধির মুঠোফোনে কল দিলে তিনি জানান এগুলো দেখার দায়িত্ব আপনাদের না। তবে তিনি জানান আমরা যাবতীয় মালামাল ল্যাব টেস্টে পাঠিয়েছি, রিপোর্ট এখন পাইনি। রিপোর্ট ছাড়া কিভাবে কাজ শুরু করলেন, এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, বিষয়টি উপজেলা প্রকৌশলী দেখবেন।
অনিয়মের বিষয়ে জানতে একাধিকবার খুলনা জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে মোবাইল ফোন করা ও ম্যাসেজ পাঠানো হলেও সাড়া না পাওয়ায় উভয়ের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।