সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:৫১ অপরাহ্ন

Headline :
খুলনায় পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযানে অবৈধ পলিথিন জব্দ খুলনা সাতক্ষীরা মহাসড়কের জিরো পয়েন্ট – চুকনগর অংশের দীর্ঘ বছর যাবত বেহাল দশা সাতক্ষীরা মহাসড়ক এখন মৃত্যুফাঁদ : ঝুঁকি নিয়ে চলছেন লাখো মানুষ সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ কে ১১ কোটি টাকা পরিষোধের পরও বিদ্যুতের খুঁটি অপসরণে ধীরগতি ঝিনাইদহে ক্লিনিক্যাল বর্জ্য অব্যবস্থাপনার দায়ে ও যথাযথ প্রক্রিয়ায় রিএজেন্ট সংরক্ষণ না করায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা জরিমানা আদায় খুলনায় পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযানে হাইড্রোলিক হর্ন জব্দ ও জরিমানা আদায় সরকারি আবাসনে নতুন দৃষ্টান্ত: মিরপুর পাইকপাড়ায় আধুনিক বহুতল আবাসন প্রকল্পে নান্দনিকতা, প্রকৌশল দক্ষতা ও সেবার অনন্য সমন্বয় যমুনা ফিউচার পার্কে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুর: প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুক্তভোগী খুলনায় পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযানে ২হাজার ৫শ ৪২ কেজি অবৈধ পলিথিন জব্দ রূপসা উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন নির্মানের শুরুতেই ব্যাপক অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ

খুলনা সাতক্ষীরা মহাসড়কের জিরো পয়েন্ট – চুকনগর অংশের দীর্ঘ বছর যাবত বেহাল দশা

সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:৫১ অপরাহ্ন

 

আদৌ কি চলাচলের উপযোগী হবে মহাসড়কটি জনমনে প্রশ্ন ?

আঃ হাকিম বিশেষ প্রতিনিধি

খুলনা সাতক্ষীরা মহাসড়কটির জিরো পয়েন্ট – চুকনগর অংশটি সাতক্ষীরা জেলা ( ভোমরা স্থল বন্দর) সহ যশোর জেলার একাংশ ও খুলনার উপকূলীয় উপজেলা কয়রা, পাইকগাছার সাথে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার অন্যতম ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দীর্ঘ বছর যাবত রাস্তাটি যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে । রাস্তাটিতে বিভিন্ন সময় (রাস্তার উপরেই ) খানা খন্দের ভেতর যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বিকল হয়ে পড়ে। এছাড়া নিত্যদিনের যানজট তো লেগেই রয়েছে। বিভিন্ন সময় চালকের সামান্য অসতর্কতায় বড় বড় দুর্ঘটনা ও সংঘটিত হয়েছে। ছোটখাটো দুর্ঘটনা এখানকার নিত্যদিনের চিত্র।

নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্রে জানা যায়, মহাসড়কটির জিরো পয়েন্ট – চুকনগর অংশের দৈর্ঘ্য প্রায় ২৮ কি:মি : । জিরোপয়েন্ট ও চুকনগর বাজারসহ মহাসড়কের অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ২.৫ কি:মি: অংশে আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ করা হয়েছে । এর মধ্যে চুকনগর অংশে প্রায় ১.২ কি:মি:এবং জিরোপয়েন্ট থেকে রেললাইন পর্যন্ত প্রায় ১.৩ কি: মি:। বাকি প্রায় ২৫ কি: মি: সড়কের মধ্যে এর মধ্য ২০ কি:মি:এখনো অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ।

খুলনা-চুকনগর মহাসড়কের সর্বশেষ পুনর্নির্মাণ ও প্রশস্তকরণ কাজ শেষ হয় ২০২০ সালে। নির্মাণের অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই ভারী যানবাহন চলাচল ও নিম্নমানের কাজের কারণে সড়কটির কার্পেটিং উঠে বড় বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হতে থাকে। সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায়, সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) কর্তৃক বিভিন্ন সময় জোড়াতালি ও খণ্ডকালীন সংস্কার কাজ পরিচালিত হয়েছে।
সড়কটি চলাচলের উপযোগী করতে মাঝে মাঝেই ইটের সলিং ও আংশিক ঢালাইয়ের মাধ্যমে জোড়া তালি দিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা (স ও জ) খুলনা কোনরকম চালু রেখেছে। মহাসড়কটিতে চলাচলরত বিভিন্ন পণ্যবাহী ও যাত্রীবাহী চালকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, রাস্তায় সৃষ্ট বড়, বড় খানা -খন্দের কারণে মাত্র ২৮ কিলোমিটার রাস্তা পার হতে সময় লাগে দেড় থেকে দুই ঘন্টা। ফলে যাত্রী সাধারণের ভোগান্তি বেড়েছে এবং পণ্য পরিবহন ও বিলম্বিত হচ্ছে।

চালকরা আরো জানান, গর্তে পড়ে অনেক সময় যানবাহনের অংশবিশেষ ভেঙে বিকল হয়ে পড়লে সেই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে ২ – ৩ দিন সময় লাগে। এতে করে যানবাহনের মালিকেরা ও শ্রমিকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ।

সড়কে শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত হাইওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে মৌখিকভাবে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (স ও জ) খুলনাকে একাধিকবার ছোট বড় সড়ক দুর্ঘটনার কারণ হিসাবে রাস্তার বেহাল দশাকে চিহ্নিত করে নিরসনের জন্য অনুরোধ করলে ও সড়ক বিভাগের পক্ষ থেকে সমস্যা সমাধানের কোন বাস্তবভিত্তিক অগ্রগতি এখন পর্যন্ত লক্ষ্য করা যায়নি। এমন মন্তব্য করেন খুলনা অঞ্চলের হাইওয়ে পুলিশ সুপার (অতিরিক্ত ডিআইজি) মোহাম্মদ জাকারিয়া। স্থানীয়দের সাথে মহাসড়কটির অচলাবস্থা নিয়ে আলোচনা করলে তারা এ প্রতিবেদককে জানান , সমস্যাটি দীর্ঘদিনের । সড়ক বিভাগ খুলনা কোনরকম জোড়া তালি দিয়ে রাস্তাটি টিকিয়ে রেখেছে। দীর্ঘ বছর যাবত সড়ক বিভাগের পক্ষ থেকে সমস্যা সমাধানে, রাস্তা পুনর্নির্মাণের কথা জানালেও এ পর্যন্ত বাস্তবিক কোন কার্যক্রম তারা গ্রহণ করেননি । আদৌ রাস্তাটির অচল অবস্থা নিরসন হবে কিনা ? এ বিষয়ে স্থানীয়দের মাঝে সংশয় দেখা দিয়েছে।
মহাসড়কটির অচলাবস্থার স্থায়ী নিরসনের বিষয়ে খুলনা সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ তানিমুল হক বলেন, খুলনা সাতক্ষীরা মহাসড়কের জিরো পয়েন্ট থেকে চুকনগর অংশের সমস্যা সমাধানে আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করছি । আশা করি খুব দ্রুত এ সমস্যার সমাধান হবে।