সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১০:০১ অপরাহ্ন

Headline :
খুলনায় পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযানে অবৈধ পলিথিন জব্দ খুলনা সাতক্ষীরা মহাসড়কের জিরো পয়েন্ট – চুকনগর অংশের দীর্ঘ বছর যাবত বেহাল দশা সাতক্ষীরা মহাসড়ক এখন মৃত্যুফাঁদ : ঝুঁকি নিয়ে চলছেন লাখো মানুষ সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ কে ১১ কোটি টাকা পরিষোধের পরও বিদ্যুতের খুঁটি অপসরণে ধীরগতি ঝিনাইদহে ক্লিনিক্যাল বর্জ্য অব্যবস্থাপনার দায়ে ও যথাযথ প্রক্রিয়ায় রিএজেন্ট সংরক্ষণ না করায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা জরিমানা আদায় খুলনায় পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযানে হাইড্রোলিক হর্ন জব্দ ও জরিমানা আদায় সরকারি আবাসনে নতুন দৃষ্টান্ত: মিরপুর পাইকপাড়ায় আধুনিক বহুতল আবাসন প্রকল্পে নান্দনিকতা, প্রকৌশল দক্ষতা ও সেবার অনন্য সমন্বয় যমুনা ফিউচার পার্কে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুর: প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুক্তভোগী খুলনায় পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযানে ২হাজার ৫শ ৪২ কেজি অবৈধ পলিথিন জব্দ রূপসা উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন নির্মানের শুরুতেই ব্যাপক অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ

কেরানীগঞ্জে তীব্র গ্যাস সংকট: রান্না বন্ধ, ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ। এটা কি তিতাসের অব্যবস্থাপনা না রাজনৈতিক চক্রান্ত???

সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১০:০১ অপরাহ্ন
Oplus_131072

কেরানীগঞ্জে তীব্র গ্যাস সংকট: রান্না বন্ধ, ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ। এটা কি তিতাসের অব্যবস্থাপনা না রাজনৈতিক চক্রান্ত???

হাওলাদার আব্দুল হাকিম

বিশেষ প্রতিনিধি

কেরানীগঞ্জ উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে চলা গ্যাস সংকট এখন চরম আকার ধারণ করেছে। বাসা-বাড়িতে রান্নার গ্যাস প্রায় আসেই না, আর আসলেও চাপ এত কম যে চুলা জ্বালানো সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত গ্যাস থাকে না বললেই চলে। অনেক পরিবারকে বাধ্য হয়ে রান্নায় এলপি গ্যাস কিংবা কাঠ ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে। গ্যাসের এই সংকটের কারণে জনমনে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।

গ্যাস সংকটকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতিতেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। কেরানীগঞ্জ মডেল উপজেলা বিএনপির একজন সিনিয়র নেতা অভিযোগ করে বলেন— “কেরানীগঞ্জের মাটি ও মানুষের নেতা আমান উল্লাহ আমান ভাইকে ভোটে পরাজিত করার ষড়যন্ত্র চলছে। তিতাস গ্যাসের ম্যানেজার প্রকৌশলী নাজির আহমেদ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি সৃষ্টি করেছেন। আমরা যখন ভোট চাইতে যাই, মানুষ বলে—গ্যাস দিতে পারেন না, আবার ভোট চাইতে আসছেন কেন!”

অন্যদিকে, জিনজিরা তিতাস গ্যাসের সহকারী ম্যানেজার আমানুল্লাহ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন— “জাতীয় গ্রিড থেকেই আমরা পর্যাপ্ত গ্যাস পাচ্ছি না। কেন্দ্রীয় সরবরাহ কমে যাওয়ায় এলাকাভিত্তিক চাপও হ্রাস পেয়েছে। এতে তিতাসের স্থানীয় অফিসের তেমন কিছু করার নেই।”

তবে এলাকার একাধিক বাসিন্দা ও তিতাসের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে, কিছু অসাধু ঠিকাদার ও প্রভাবশালী কনট্রাক্টর অবৈধভাবে ডজন ডজন ছোট ও মাঝারি আকারের ফ্যাক্টরিকে গ্যাস সংযোগ দিয়েছে। এই সংযোগগুলো কোনো সরকারি অনুমোদন ছাড়াই দেওয়া হয়েছে, যার ফলে মূল লাইন থেকে প্রচুর গ্যাস সরাসরি শিল্প কারখানায় চলে যাচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ “আমাদের বাসায় চুলা জ্বলে না, অথচ পাশের গলিতেই রাতদিন কারখানায় গ্যাসে মেশিন চলছে। এটা কিভাবে সম্ভব?”কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ হাউসিং এবং বসুন্ধরা এলাকায় এপার্টমেন্ট গুলোতে দুই একটি চুলার বৈধতা থাকলেও সব ফ্ল্যাটের ভিতরই তারা গ্যাসের চুলা ব্যবহার করছেবলে জানা যায়।

 

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, এসব অবৈধ সংযোগের জন্য সংশ্লিষ্ট কিছু ঠিকাদার ও তিতাসের কিছু অসাধু কর্মকর্তার মধ্যে আর্থিক লেনদেনও হয়ে থাকে। এতে একদিকে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ জনগণ গ্যাসবঞ্চিত হচ্ছে।

 

গ্যাস সংকটে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ দ্রুত সমাধান চায়।
তাদের দাবি—অবৈধ সংযোগগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত বিচ্ছিন্ন করতে হবে। গ্যাস বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক প্রভাব বা দুর্নীতি নয়, বরং প্রকৃত প্রয়োজন অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
কেরানীগঞ্জবাসীর প্রত্যাশা— সরকার ও তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে, যাতে এই গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা থেকে সাধারণ মানুষ মুক্তি পেতে পারে।